ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
قٰالَ اللهُ تَعٰالٰى :
্রوَ مِنْ آيٰاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجـًا لِّتَسْكُنُوْا إِلَيْهٰا وَ جَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَ رَحـْـمَةً إِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيٰاتٍ لِقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: “এবং তার নিদর্শনগুলোর একটি হলো যে, তিনি তোমাদের জন্য সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সত্তা থেকেই, যেন তোমরা তাদের মাঝে আরাম খুঁজে পাও এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন আছে ঐ ব্যক্তিদের জন্য―যারা গভীরভাবে চিন্তা করে।” [সূরা রূম: ২১]
বিয়ে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আল্লাহর কাছে একজন ঘুমন্ত বিবাহিত ব্যক্তির মর্যাদা, সারা দিন রোজা রাখা এবং সারা রাত নামাজ পড়া অবিবাহিত ব্যক্তির চেয়ে উত্তম।” [বিহারুল আনওয়ার, খÐ-১০৩, পৃষ্ঠা-২২১]
“তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে কলুষিত হলো অবিবাহিতরা।”
[আত্্-তাহ্যীব, খÐ-৭, পৃষ্ঠা-২৩৯]
“হে যুবকেরা, যদি তোমাদের কেউ বিয়ে করতে সক্ষম হও, তাহলে বিয়ে কর; কারণ, নিশ্চয়ই তা তোমাদের দৃষ্টিকে ফিরিয়ে আনে [অন্য নারীদের দিক থেকে] এবং তা তোমাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে।” [মুস্তাদ্রাকে ওয়াসাইলুশ্্্ শিয়া, খÐ-১৪, পৃষ্ঠা-১৫৩]
“[দোযখের] আগুনের অধিবাসীদের অধিকাংশই হবে অবিবাহিত।” [মান লা ইয়াহ্জুরুহুল ফাক্বীহ, খÐ-৩, পৃষ্ঠা-৩৮৪]
“যে ব্যক্তি আশা করে যে, আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময় সে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকবে, তাহলে তার উচিৎ একজন স্ত্রীকে সাথে নিয়ে তাঁর সাক্ষাতে যাওয়া।” [মান লা ইয়াহ্জুরুহুল ফাক্বীহ, খÐ-৩, পৃষ্ঠা-৩৮৫]
* “নিশ্চয়ই কুমারী নারীরা হলো গাছের ফলের মতো, যখন এর ফল পাকে অথচ তা আহরণ করা হয় না, তখন সূর্যের আলো সেগুলোকে নষ্ট করে দেয় এবং বাতাস ঐগুলোকে ছড়িয়ে ফেলে দেয়। কুমারী নারীদের অবস্থাও একই রকম। যখন তারা বুঝতে পারে, যা নারীরা মনে অনুভব করে থাকে, তখন স্বামী ছাড়া এর আর কোন ঔষধ নেই। যদি তাদেরকে বিয়ে না দেওয়া হয়, তাহলে তারা কলুষ থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না, কারণ তারাও মানুষ।” [আল-কাফী, খÐ-৫, পৃষ্ঠা-৩৩৭]
“তোমাদের সন্তানদের বিয়ে দাও, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের আচরণকে ভালো করে দিবেন, তাদের রিযিক্ বৃদ্ধি করবেন এবং তাদের পারস্পরিক মর্যাদাকে বৃদ্ধি করবেন।” [বিহারুল আনওয়ার, খÐ-১০৩, পৃষ্ঠা-২২২]
“কোন নারীর জন্য অশুভ লক্ষণ হলো তার উচ্চমূল্যের মোহরানা এবং তার বদমেজাজ।” [বিহারুল আনওয়ার, খÐ-৫৮, পৃষ্ঠা-৩২১]
“আমার উম্মতের মধ্যে ঐ নারীরা শ্রেষ্ঠ যাদের চেহারা খুব সুন্দর, অথচ তাদের মোহরানার দাবি কম।” [বিহারুল আনওয়ার, খÐ-১০৩, পৃষ্ঠা-২৩৬]
“যে ব্যক্তি কোন নারীকে বিয়ে করে শুধু তার সুন্দর চেহারার জন্য, আল্লাহ ঐ নারীর সৌন্দর্যকে তার জন্য ক্ষতির কারণ করে দেন।” [ওয়াসাইলুশ্্্্ শিয়া, খÐ-২০, পৃষ্ঠা-৫৩]
“কোন নারীকে বিয়ে করো না তার সৌন্দর্যের জন্য; কারণ, তার সৌন্দর্য তার মাঝে অধার্মিকতা সৃষ্টি করতে পারে; আর না সম্পদের জন্য কাউকে বিয়ে করবে; কারণ, তার সম্পদ তাকে অবাধ্য করতে পারে; বরং, নারীকে বিয়ে কর তার ধার্মিকতার জন্য।” [আল-মুহাজ্জাতুল বাইদ্বা, খÐ-৩, পৃষ্ঠা-৮৫]
“তোমরা নারীদের জন্য উচ্চ মোহরানা নির্ধারণ করো না, কারণ তা শত্রæতা সৃষ্টি করে।” [ওয়াসাইলুশ্্্ শিয়া, খÐ-২১, পৃষ্ঠা-২৫৩]
আমীরুল মু’মিনীন ইমাম আলী (দ.) বলেছেন: “আল্লাহর বিধান অনুযায়ী দু’জন ব্যক্তির বিয়ের জন্য যখন কোন সুপারিশ করা হয়, সেটি হলো শ্রেষ্ঠ সুপারিশ।”
[আত্্-তাহ্যীব, খÐ-৭, পৃষ্ঠা-৪১৫; আল-কাফী, খÐ-৫, পৃষ্ঠা-৩৩১]
ইমাম সাদিক্ব (দ.) বলেছেন: “সবচেয়ে ঘৃনিত গুনাহ তিনটি:
১. অতিরিক্ত খাটানোর মাধ্যমে পশুকে হত্যা করা;
২. মোহরানা আটকে রাখা এবং
৩. শ্রমিকের মজুরী না দেওয়া।” [বিহারুল আনওয়ার, খÐ-৬৪, পৃষ্ঠা-২৬৮]
বিজ্ঞ পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বংশের ইমামগণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামের পরে “আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদ (হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের রক্ত সম্পর্কীয় পরিবার ও বংশের ওপর কল্যাণ বর্ষণ করুন)” বলা উত্তম বিধায় তাদের নামের পরে (দ.) লেখা হয়েছে।
Comments
Post a Comment